বিদেশে পড়াশুনা করার ইচ্ছে বাংলা ইংরেজি সকল মিডিয়ামের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই দেখা যায়। অনেকেই এ বিষয়ে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের শত শত এজেন্সি বা এজেন্টের সহায়তা নিয়ে থাকেন। এজেন্সি বা এজেন্টের সহায়তা নিয়া দোষের কিছু নেই। তবে, নিজে থেকে চেষ্টা করলে এ কাজগুলো নিজে নিজে করা অসম্ভব কিছু নয়। বস্তুত অনেক ক্ষেত্রে নিজে নিজে প্রস্তুতি গ্রহণ আপনার ভবিষ্যতের জন্য অনেক বেশী সহায়ক হতে পারে। আসুন দেখে নেই অন্যের উপর নির্ভরশীলতার চেয়ে নিজের চেষ্টা কিভাবে পার্থক্য গড়তে পারে?
প্রথমত, আপনি নিজে আপনার কাঙ্খিত দেশ, বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স এবং স্কলারশিপ খুঁজে বের করতে পারেন। একটু সময় নিয়ে চেষ্টা করলে আপনার না পারার কারণ নেই। তথ্যের জন্য বা আপডেট থাকার জন্য আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এজেন্সি বা এজেন্টের সাথে কানেক্টেড থাকতে পারেন। তবে, পুরোপুরি নির্ভর না হয়ে নিজে নিজে চেষ্টা করলে ভর্তি এবং স্কলারশিপ আপনি জোগাড় করতে পারবেন- এতে কোনই সন্দেহ নেই।
আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন সকল বিশ্ববিদ্যালয়েরই এডমিশন ডিপার্টমেন্টে বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসার উত্তর দেয়ার জন্য একটি ডেডিকেটেড ই-মেইল দেয়া থাকে। আপনি আপনার কোনো প্রশ্নের উত্তর অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ই-মেইল যোগে পেতে পারেন। আপনি নিজে ই-মেইলে যোগাযোগ করলে প্রতারিত হবার সম্ভাবনা কমে যাবে। এজেন্সি বা এজেন্টের কাছে জিজ্ঞাস না করে সরাসরি ই-মেইলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন- এই সক্ষমতা অর্জনের কথা এজেন্সী আপনাকে বলবে না।
নিজ খরচে বিদেশে পড়তে গেলে আর্থিক চাপ কেমন হবে তার সবটুকু আপনাকে কোনোদিনই এজেন্সী বলবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির পর খন্ডকালীন চাকুরি পেতে আপনার দেরি হতে পারে। তাছাড়া, খন্ডকালীন চাকুরির আয় আপনার জন্য সাফিসিয়েন্ট নাও হতে পারে। চাকুরির পাশাপাশি আপনাকে পড়াশুনাটাও চালিয়ে নিতে হবে। পড়াশুনা ঠিক রেখে আপনি কাজ করার খুব বেশী সময় নাও পেতে পারেন। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভাব্য আর্থিক ও মানষিক চাপ বিষয়ে আপনাকে বলা হবে না।
তাছাড়া, ভাষা দক্ষতার সার্টিফিকেট না থাকলেও সমস্যা নেই- এ রকম আশ্বাস দিয়ে আপনাকে এমওআই (MOI) দিয়ে যেনতেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিয়া হতে পারে। এজেন্সী বলবে না যে, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন ছাড়া আপনি বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো করতে পারবেন না। তবে, সত্যিকার অর্থে, ইংরজি মাধ্যমে পড়াশুনা করে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনাকে তো ডিগ্রীটা অর্জন করতে হবে। আপনার ভাষা দক্ষতা এবং কমিউনিকেশন লেভেল পুওর হলে বিদেশে আপনাকে খন্ডকালীন চাকুরি পেতেও স্ট্রাগল করতে হতে পারে- এটি এজেন্সি বা এজেন্ট আপনাকে বলবে না।
আপনার আরজেন্সি দেখে এজেন্সি বা এজেন্ট তাদের সাথে বিদেশের যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ আছে তাতেই আপনাকে ভর্তি করিয়ে দিবে। তার মানে, আপনি আপনার পটেনশিয়ালিটি অনুযায়ী ভর্তি হতে পারবেন না। আপনার হয়তো ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপসহ ভর্তির সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু এজেন্সি বা এজেন্টের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করার কারণে আপনার সে সম্ভাবনার মৃত্যু হবে। এটি তারা আপনাকে বুঝতে দিবে না।
পরিশেষে, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোর্স নির্বাচনে আপনি বিখ্যাত কিউ এস (QS) বা টাইমস হায়ার (Times Higher Education) র্যাংকিং ব্যবহার করতে পারেন তা আপনাকে বলা হবে না। কোন বিশ্ববিদ্যালয় কেমন এটি বুঝতে এজেন্সি বা এজেন্ট আপনাকে তাদের উপর ডিপেন্ডেন্ট দেখতে চাইবে কারণ এতে আপনি আপনার অজ্ঞতা বা আলসেমির জন্য টাকা খরচ করতে বাধ্য হবেন।
অতএব, এসকল বিষয়সমূহ বিবেচনায় আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কী করবেন? লেখকের পরামর্শ হচ্ছে আপনি এখন থেকেই শুরু করুন। নিজে যত বেশী সমৃদ্ধ হবেন ঠকার সম্ভাবনা তত কমে যাবে।













