বিদেশে পড়ার প্রস্তুতিকালে বাজেট প্ল্যানিং অতীব জরুরি। বিদেশে পড়াশুনার সম্ভাব্য পরিপূর্ণ খরচ সম্পর্কে অনেকের ধারণা নেই। অনেকে সর্বমোট খরচের সম্ভাব্য ধারণা না নিয়েই বিদেশে পাড়ি দেন। পরে খরচ বহন না করতে পারায় বেকায়দায় পড়েন।
শুধু কী তাই? বাজেট প্লানিং না করে বিদেশে পড়তে যাওয়ার পর অনেকে পড়াশুনা চালিয়ে নিতে পারেন না। মাঝপথে পড়া বন্ধ হওয়ার নজির কম নয়।
বিদেশে পড়াশুনার খরচ মানে শুধু টিউশন ফি নয়। টিউশন ফি‘র সাথে আরে অনেকগুলো খাত বিবেচনা করতে হয়। নীচের ডায়াগ্রাম আপনাকে প্রাথমিক ধারণা দিবে।
মূলত পাঁচটি খাতকে প্রধান ধরে উপরের ডায়াগ্রামটি প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব স্বাভাবিক কারণেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়/দেশ/শহরে খরচের তারতম্য হবে। সকল খরচের মধ্যে টিউশন ফি‘র খরচ সাধারণত সবচেয়ে বেশী হয়ে থাকে। আপনার খরচ অনেক কমে যাবে যদি স্কলারশিপে আপনি পড়তে যান। যদি ফুললি ফান্ডেড হয় তবে অন্যান্য খরচ খুব সহজেই লিভিং এলাউন্স থেকে বহন করা যায়। যদি টিউশন ওয়েবার হয় তবে আপনি হয়তো পার্টটাইম জব করে বাকী খরচ বহন করতে সক্ষম হবেন।
তাই সেল্ফ ফান্ডিং এ যারা বিদেশে পড়তে যাবেন বা যাচ্ছেন তাদের জন্য বাজেট প্ল্যান অতীত জরুরি। উপরোক্ত ডায়াগ্রামটি আপনাকে সম্ভাব্য খরচের খাতসমূহের বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণা দিবে। তাই, এটি অনুসরনে আপনি আপনার বাজেট প্ল্যানটি করতে পারেন।
[১] প্রিপারেটরী কস্ট:
এটিই সবচেয়ে বড় খাত। তবে, স্কলারশিপ, ফেলোশিপ বা ফান্ডিং সুযোগ আপনাকে এ খরচ থেকে বাচাতে পারে। এর বাইরে আরো কিছু খরচ যেমন, কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন বা রেজিস্ট্রেশন ফি দাখিলের প্রয়োজন হতে পারে।
[২] টিউশন:
এটিই সবচেয়ে বড় খাত। তবে, স্কলারশিপ, ফেলোশিপ বা ফান্ডিং সুযোগ আপনাকে এ খরচ থেকে বাচাতে পারে। এর বাইরে আরো কিছু খরচ যেমন, কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন বা রেজিস্ট্রেশন ফি দাখিলের প্রয়োজন হতে পারে।
[৩] বাসস্থান:
বিদেশে পড়াশুনাকালীন এটি সাধারণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খরচের খাত হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। অনেক উন্নত দেশ/শহরে বাসা ভাড়া খরচ অত্যন্ত বেশী থাকে। এর সাথে ইউটিলিটি, যেমন ইলেকট্রিসিটি, গ্যাস, পানির বিল এবং ইন্টারনেট বিল যোগ করলে অংকটি বেশ বড় হতে পারে।
[৪] স্বাস্থ্য বীমা ও খাবার খরচ:
পৃথিবীর অনেক দেশে স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক। এর খরচও অনেক সময়ই অত্যধিক হয়ে থাকে। এর সাথে ঔষধ খরচ, গ্রোসারি/শপিং যোগ হয়ে খরচের অংকটি বড় হতে পারে।
[৫] বিবিধ:
উপরোক্ত খরচের বাইরেও বেশ কিছু খাতের খরচের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। যেমন, পরিবহন খরচ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা, ট্রাভেলিং বা ভিজিটিং খরচ। ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকলে এটি বেশী হতে পারে। তাছাড়া, বইপত্র কেনা, বিনোদন এবং মোবাইল খরচ ইত্যাদি বিবিধ খরচ বাজেট প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন।













One response to “ব্লগ #০৭: বিদেশে পড়ার প্রস্তুতিকালে বাজেট প্ল্যানিং কেন জরুরি?”
চমৎকার বিশ্লেষণ! সাথে যদি দেশভিত্তিক আনুমানিক খরচের একটা তুলনামূলক ধারণা যোগ করা যায়, তাহলে পোস্টটা আরও বেশি উপকারী হবে।